দেশে প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন  ঢাকা, ৭ জুন, ডা. সজল আশফাক, ফোকাস বাংলা নিউজ: দেশে প্রথমবারের মত সফল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বা সংস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। লিভার সংস্থাপনের এই অপারেশনে প্রথম প্রচেষ্টাতেই সফল হয়েছেন দেশের প্রখ্যাত লিভার সার্জন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী। গত ৩ জুন ২০১০ বারডেম হাসপাতালে দেশের প্রথম সফল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বা যকৃত সংস্থাপনের অস্ত্রপচার সম্পন্ন হয়। সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ১৭ ঘণ্টার অস্ত্রপচারের মাধ্যমে খালিদ আব্দুল্লাহ (২৯) এর দেহ থেকে তার লিভারের কিছু অংশ কেটে কাজী এরশাদ আহমেদ (৪২) এর দেহে সংস্থাপন করা হয়।
প্রথমে সকাল ৭টা থেকে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে লিভার দাতা খালিদ আব্দুল্লাহর দেহ থেকে তার লিভারের কিছু অংশ সংগ্রহের কাজ শেষ হয়। একই সময়ে অন্য অপারেশন থিয়েটারে লিভার গ্রহীতা কাজী এরশাদ আহমেদ (৪২) এর দেহে সংগ্রহ করা লিভারের অংশটি সংস্থাপনের কাজ শুরু হয়। অপারেশন শেষ হতে হতে রাত ১২টা বেজে যায়। সফল এই লিভার ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে আরো একটি মাইল ফলক স্থাপিত হল।
লিভার গ্রহীতা কাজী এরশাদ আহমেদ, কুমিল্লার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ক্রিপটোজেনিক সিরোসিস রোগের কারণে অকার্যকর লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। এ সময়ে পরিপাকতন্ত্র ও লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম এস আরেফিনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেয়ার সময়েই লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বা সংযোজন সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। পরবতর্ীতে অধ্যাপক আরেফিন কাজ থেকে এ বিষয়ে অবহিত ও উদ্বুদ্ধ হয়ে বারডেম হাসপাতালের হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়েটিক সাজর্ারি বিভাগের প্রধান লিভার সার্জন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর শরণাপন্ন হন কাজী এরশাদ আহমেদ। মৃতু্যপথযাত্রী কাজী এরশাদ আহমেদকে বাঁচাতে লিভার সংস্থাপনের জন্য লিভার দাতা হিসাবে এগিয়ে আসেন মামা খালিদ আব্দুল্লাহ। সম্পর্কে মামা হলেও সে ভাগ্নের চেয়ে ১৩ বছরের ছোট। খালিদ আব্দুল্লাহ ঢাকার শান্তিবাগে বসবাস করেন। লিভার দাতার সাহস ও আত্মত্যাগের মহিমায় মুগ্ধ অস্ত্রপচার দলের সকলেই। অপারেশনের আগ মুহূর্তেও তার মধ্যে কোন টেনশন লক্ষ্য করা যায়নি। বরং কৌতুক করে বলছিলেন, আমার ছবি তুলবেন না প্লিজ, এখনো বিয়ে করিনি, লিভার দান করেছি শুনলে বিয়ে হবে না।
অপারেশনের পর লিভার গ্রহীতা কাজী এরশাদ আহমেদ বর্তমানে বারডেম হাসপাতালের ট্রান্সপ্লান্ট ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে আছেন। তার অবস্থা ক্রমশ উন্নতির দিকে। আরো সপ্তাহখানেক তাকে এখানে রাখার কথা রয়েছে। অন্যদিকে দ্রুত সেরে ওঠা লিভার দাতা খালিদ আব্দুল্লাহকে সার্জিক্যাল আইসিইউ'র নিবিড় পর্যবেক্ষণ থেকে আজ সাধারণ পর্যবেক্ষণের বিছানায় স্থানান্তরের কথা রয়েছে।
দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের লক্ষ্যে গত কয়েকবছর ধরেই প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছিল বারডমে হাসপাতালের কর্ণধার অধ্যাপক আজাদ খান এবং লিভার সার্জন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী। গত কয়েক বছর ধরেই অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ও তার সঙ্গীরা অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। যাবতীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর এটিই অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর প্রথম প্রচেষ্টা। প্রথম প্রচেষ্টাতেই তিনি ও তার দল সফল হন। প্রথমবারের এই অপারেশনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের সার্জিক্যাল টীম এই অপারেশনে অংশ নেন। অপারেশনের সময় এবং অপারেশনের পর এ্যানেসথেসিওলজিস্ট বা অজ্ঞানবিদের একটি অভিজ্ঞ দল অপারেশন থিয়েটারে এবং আইসিইউতে তৎপর ছিলেন। সব মিলিয়ে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের এই অপারেশনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৬০জন চিকিৎসক অংশ নেন।
লিভার ট্রান্সপ্লান্টের এই সফলতার বিষয়টি দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর জন্য ৮ জুন মঙ্গলবার দুপুর ১টায় বারডেম হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সআ/ফোকাস বাংলা/শা খা বর্ণ
|
|
|