হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অভিনব প্রতারণা  ঢাকা, ২০ জুন, ফোকাস বাংলা নিউজ: জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউটে হৃদপিন্ডে ভাল্ভ স্থাপনের নামে রোগীদের কাছ থেকে অভিনব পন্থায় প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও কতিপয় চিকিৎসকদের কাছে রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ প্রতারণা শিকার হচ্ছে।
সূত্র জানায়, হৃদরোগ ইনস্টিটিউটিরের পরিচালকের নেতৃত্বে কতিপয় চিকিৎসক রোগীর অবস্থা খারাপ বলে তার পরিবারের সদস্যদের জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করাতে বলেন। এরপর রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অভিনব কায়দায় জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা আদায়ের পর রোগীর অপারেশন করা হয়। আর এসব অপারেশনের মাধ্যমে রোগীর দেহে ভালভ স্থাপনের জন্য ২ লাখ টাকা থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অথচ ওই সব রোগীদের দেহে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভালভ স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগে জানা গেছে।
জানা গেছে, এ কে এম মামুন নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. আবুল হোসেন খান চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে গত মে মাসে ভর্তি হন। তার ভর্তি রেজি: নম্বর ৩৬৯০৪। এরপর গত ০২/০৫/১০ ইং তারিখে তাকে জরুরী ভাবে অপারেশন করার জন্য বলা হয়। পরে তাকে জরুরী অপারেশন ও ভালভ স্থাপনের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর টাকা আদায়ের জন্য তাকে দীর্ঘ সময় ট্রলির উপর রাখে। পরে মামুনের ভাই সাইদুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা 'দি হার্ট বিট' নামক কোম্পানীর মানি রিসিটের মাধ্যমে আদায়ের পর তার অপারেশন করে বাল্ব স্থাপন করে। আর মামুনের শরীরে যে বাল্ব স্থাপন করা হয়েছে তার মূল্য মাত্র ৭০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা। এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের রেজি: খাতায় মামুনের নামের পাশে আলাউদ্দিন নামে এক রোগী যার রেজি: নম্বর- ৩৬৬৯, তার ভালভের স্টিকার খাতা থেকে তুলে মামুনের নামের পাশে খাতায় লাগানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এ ধরণের ঘটনা দি হার্ট বিট কোম্পানীর লোকজনের যোগসাজশে করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে এ কে এম মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডা. আবুল হোসেন খান চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে জরুরী অপারেশনের কথা বলে ওটি নিয়ে জিম্মি করে তার ভাইয়ের্ কাছ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এরপর তার শরীরে অল্প মূল্যের বাল্ব স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্য রোগীর বেশী দামের স্টিকার এনে তার নামের পাশে স্থাপন করা হয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনসহ আইনের সাহায্য নিবেন বলে জানান।
হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. আবুল হোসেন খান চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কথা বলে মামুনকে কাগজপত্র নিয়ে তার কাছে যেতে বলেন। কাগজপত্রে কোন অনিয়ম হলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
রানা/ফোকাস বাংলা/শা খা বর্ণ
|
|
|