এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পদ দখলের অভিযোগ : বার্ষিক সাধারণ সভায় তুমুল হট্টগোল  ঢাকা, ১২ জুলাই, ফোকাস বাংলা নিউজ : সাধারণ শেয়ার হোল্ডার, কিছুসংখ্যক পরিচালকের ক্ষোভ, অসন্তোষ আর হট্টগোলের মধ্য দিয়ে বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিচালক ও সাধারণ শেয়ার হোল্ডাররা অভিযোগ করেন, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত ১১ বছর ধরে অবৈধ ও বেআইনিভাবে পদ দখল করে রেখেছেন। সোমবারের বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিচালকদের বিরোধিতা সত্ত্বেও এক তরফাভাবে ৩৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ট ও ২ অনুপাত ১ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা অভিযোগ করেন, পরিচালকদের সম্মতি না নিয়েই গায়ের জোরে নাটক সাজিয়ে তিনি সাধারণ সভা করেছেন। কিছুসংখ্যক সাধারণ শেয়ার হোল্ডারকে হাত করে বার্ষিক সাধারণ সভার এজেন্ডায় সম্মতি নিয়েছেন। এ সময় পরিচালক নির্বাচনের জন্য সরাসরি ভোট গ্রহণের পরিবর্তে মনোয়ন দেয়ার কথা তোলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার। কিন্তু তার এমন প্রস্তাবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার ও অন্য পরিচালকরা চেঁচামেচি শুরু করেন। তাদের তীব্র বাঁধার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সরাসরি ভোট গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি সামলে নেন। এ ব্যাপারে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কোন একটি ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে ব্যাংকের সুনাম ক্ষুন্ন করতে চাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগকে তিনি অস্বীকার করেন।
ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান পরিচালকদের মাঝে চরম দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনা মতে ব্যাংকটির পরিচালক সংখ্যা ২১ থেকে ১৩ জনে নামিয়ে আনতে বলা হয়। সে সময় পরিচালক মাজাকাত হারুন, ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর রহমান ও নূর হোসেনসহ আরো সাতজনকে তিন বছরের জন্য পরিচালকের পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন নজরুল ইসলাম। তবে তিন বছর পর অন্যদের অবসরে পাঠিয়ে তাদেরকে আবারো পর্ষদ সদস্য অঙ্গীকার করেন তিনি।
২০০৮ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার আগের দিন বোর্ড সভায় নূর হোসেন, আমিনুর রহমান ও মাজাকাত হারুনকে পর্ষদে ফিরিয়ে আনার অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সাধারণ সভায় তাদের পরিচালক বানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা বিষয়টি নিয়ে মামলাও করেন। কিন্তু এর কোনো সুরাহা হয়নি।
নূর হোসেন, আমিনুর রহমান ও মাজাকাত হারুন সোমবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এসে বক্তব্য দিতে চাইলে তাদেরকে টেনে-হিচড়ে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। এ সময় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারা তাদের কথা শুনতে চাইলেও চেয়ারম্যান ও তার অনুসারিরা এতে রাজি হননি। এ নিয়ে পুরো হল রুমে হট্টগোল বেঁধে যায়। কিছু সংখ্যাক শেয়ারহোল্ডার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় ব্যাংকের অপর পরিচালক নুুরুল ফজল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
জাহিদ/ফোকাস বাংলা/১৮০০ঘ./শা খা বর্ণ
|
|
|