আট বছর পর জবি ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের প্রস্ততি : প্রতিহতের চক্রান্ত সুবিধাভোগীদের  ঢাকা, ২৩ জুলাই, মোয়াজ্জেম হোসেন শাকিল, ফোকাস বাংলা নিউজ : অবশেষে দীর্ঘ ৮ বছর পর অপেক্ষা আর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্ব ও ডিজিটাল চমক নিয়ে দলকে চাঙ্গা করার উদ্দেশে চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কাউন্সিল। নতুন কমিটিতে দলের নিয়মিত ও ত্যাগী নেতারাই স্থান পাবে বলে দলের হাই কমান্ড সূত্রে জানা গেছে। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকমর্ীদের মাঝে চলছে লবিং-গ্রুপিং। এদিকে, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত না করে কেন্দ্র থেকে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা কারায় কমিটিকে প্রতিহত করতে একটি মহল প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
জানাযায়, ২০০৩ সালের ১৩ জানুয়ারি কামরুল হাসান রিপনকে সভাপতি ও গাজী আবু সাঈদকে সাধারণ সম্পাদক করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৪১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকা কারো ছাত্রত্ব নেই। অনেকের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে আজ থেকে পাঁচ বছর আগেই।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৮৭টি শাখার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গুরুত্বের বিচারে এই শাখার অবস্থান চতুর্থ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একবছর মেয়াদী হলেও দীর্ঘ আট বছরেও নতুন কোন কমিটি হয়নি। এই শাখাটির নিয়ন্ত্রণ বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি হাতে নেই। কারণ হিসেবে দেখা গেছে বর্তমানের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন ছিলেন বিগত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি পদপ্রাথর্ী। তিনি হেরে যাওয়ায় তখন অবস্থার নতুন মোড় নেয়। বিপরীত দিকে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা অধিষ্ঠিত হন তারা আগের সাংগঠনিক দুর্বল রের্কেডর কারণে জবি'র নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এর বাইরেও বিদায়ী কমিটির কোন কোন নেতার আশীর্বাদপুষ্টও হিসেবে ছিলেন জগন্নাথের বর্তমান সভাপতি। সব মিলিয়ে একদিকে নতুন নেতৃত্ব আসেনি, বিপরীত দিকে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়ে যায়। ফলে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির নেতা দ্বারা পরিচালিত হয় শাখার কার্যক্রম। দীর্ঘ আট বছর পরও নেতৃত্বের কোন পরিবর্তন না ঘটায় সংগঠনটির কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। ভেঙ্গে পড়ে সংগঠনের 'চেইন অব কমান্ড'। নেতাকর্মীরা নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
মহাজোট সরকারের প্রায় ১৮ মাসে শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে সরকারকে কয়েকবার বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। ক্যাম্পাসের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেদের মধ্যে লাগামহীন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ সময়ে নিজেদের মধ্যে বড় ধরণের ১৫ বার সংঘর্ষ হয়েছে তাতে কমপক্ষে ৩০০ জন আহত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ সংগঠনের আরও কয়েক শ' কর্মীকে আহত করেছে। ছাত্রলীগের হাতে ৩৫ শিক্ষক এবং ডজনখানেক ছাত্রীও লাঞ্ছিত হয়েছে। তারা দায়িত্বরত পুলিশকেও মারধর করেছে। অবশেষে পুলিশের আজিপি নুর মোহাম্মদের নির্দেশে মামলাও হয়। সর্বশেষ ক্লাস রুমে হামলায় ১০ ছাত্রী লাঞ্ছিতসহ ৩০ জন আহত হওয়ায় আবারও নতুন করে আলোচনার মাত্রা বাড়ায় সংগঠনটি। তাছাড়া ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপ দিয়ে প্রত্যেকবারই কয়েক শ অবৈধ ভর্তি ও মাইগ্রেশন করেছে সংগঠনের এ শাখাটি। এসব ভর্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।
১/১১ সময় এবং সংগঠনের ক্রান্তিলগ্নে যেসব ছাত্রনেতাকে ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি তারাই মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান করে দাপটে নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এ কাজে তাদের সহায়তা করছে নামধারী ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও আওয়ামীপন্থী কিছু শিক্ষক। শুধু তাই নয়, নতুন কমিটির দাবি তুলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন অনেক সিনিয়র নেতা। ফলে নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয় চরম হতাশা ও ক্ষোভ। প্রথম বর্ষে ঢুকে পাস করে অনেকেই কমর্ী হিসাবে বেরিয়ে গেছেন, হতে পারেন নি নেতা।
সমপ্রতি সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করার ঘোষণা হওয়ার পর থেকে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে চলছে কেন্দ্রের সাথে জোর লবিং-গ্রুপিং। প্রত্যেক পদপ্রত্যাশীই নিজ গ্রুপকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বিভিন্ন উপগ্রুপের সাথে সমন্বয়ের চেষ্টা করছেন। এছাড়াও তারা যে যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ এলাকার মন্ত্রী-সাংসদদের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করছেন। মাকসুদুর রহমান, আরিফুজ্জজামান আরিফ, জাকির হোসেন, ওমর ফারুক, আজমল, আইয়ুব, নাজমূল হাসান সোহাগ, মুকুল, বাবর, ইয়াসিন, সৈকত কেন্দ্রর সঙ্গে লবিং করছেন বলে জানাযায়।
দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এ কাউন্সিলকে ঘিরে তাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকমর্ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জবি শাখা ছাত্রলীগ রয়েছে সরগরম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নেতাদের বয়স সর্বোচ্চ ২৯ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত ছাত্র, অবিবাহিত, দক্ষ, পরিশ্রমী, ভালো ইমেজ রয়েছে এবং টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ হিসাবে পরিচিত নয়, নেতাকমর্ীদের মাঝে পরিচিতিসহ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, ১/১১ এর সময়ে গুরুত্বর্পণ ভূমিকা রেখেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর বিরোধী রাজনীতি করার কারণে ক্যাম্পাসে উপেক্ষিত হয়েছে এমন ব্যক্তিরাই নেতৃত্বের জন্য বিবেচিত হবেন।
এদিকে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা না করায় এবং কমিটি হলে তাদের পছন্দের লোক নেতৃত্বে না আসলে কঠোর হস্তে প্রতিহত করার প্রস্তুতি ইতিমধ্য শুরু হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিপনের সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতি কামরুল হাসার রিপনের দূরত্ব অনেক। কেন্দ্রীয় কমিটির একটি অংশ চাচ্ছে যারা ক্যাম্পাসে সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়েছে তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে। কিন্তু বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাচ্ছে অন্য কিছু বিবেচনা না করে তাদের কাছের লোকদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার মোবাইল বন্ধ থাকার কারণে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী ফোকাস বাংলা নিউজকে জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। অতি শীঘ্রই কমিটি ঘোষণা করা হবে। সৎ, দক্ষ যোগ্য নেতাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে।
শাকিল/রাসেল/ফোকাস বাংলা/১৪০০ঘ./জেডআর
|
|
|