ট্রাইবু্যনালে বিচারক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ  ঢাকা, ২৭ জুলাই, ফোকাস বাংলা নিউজ : হাইকোর্টের দুই বিচারপতিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি নিজামুল হক ও এটিএম ফজলে কবীরের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ রিট করে।
মঙ্গলবার সকালে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি সৈয়দা আফসার জাহানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদেশের পরপরই রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আপিল করার জন্য সনদ চেয়ে আবেদন করলে আদালত তাও নাকচ করে দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল আইনটি সংবিধানের প্রস্তাবনার আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে। সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, একটি ঐতিহাসিক স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনটিকে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েও ট্রাইবু্যনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১১ জুলাই সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি নোয়াব আলী বাদি হয়ে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। এ রিটের ওপর গত ১৮ জুলাই আংশিক শুনানি হয়।
ওই দিন সরকার পক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সোমবার শুনানির দিন ধার্য করে। এতে কোন কর্তৃত্ববলে তারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। সোমবার শুনানিতে অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট নামে একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের বিভাগ থাকবে দুটি- একটি আপিল বিভাগ অপরটি হাইকোর্ট বিভাগ।
সংবিধান অনুযায়ী, আপিল বিভাগের বিচারপতিরা আপিল বিভাগে ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা হাইকোর্ট বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের অন্য কোথাও দায়িত্ব পালনের বিধান নেই।
অপরদিকে সংবিধান অনুযায়ী সকল আদালত ও ট্রাইবু্যনালের ওপর হাইকোর্টের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি থাকবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল হাইকোর্টের অধীনস্থ। ফলে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বর্তমান বিচারপতিদের ট্রাইবু্যনালে নিয়োগ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মান-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
সংবিধানের ৮ম সংশোধনী মামলার রায়ে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর রায়ের নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের পর আর কোনো সমকক্ষ আদালত থাকতে পারে না।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ট্রাইবু্যনাল হাইকোর্টের অধীন নয়। যে দুই বিচারপতির কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে তারা হাইকোর্টের বিচারপতি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের বিচারকদের বিরুদ্ধে যাওয়ার একমাত্র ফোরাম সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল কোনো লাভজনক পদ নয়। ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর তারা বিচারকাজ পরিচালনা করছেন। ওই পদে তাদের নিয়োগ দিয়ে সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করা হয়নি। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির সাথে আলোচনা করেই ট্রাইবু্যনালে দুই বিচারপতির নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের কাজের ব্যাপারে হাইকোর্ট কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তারা হাইকোর্ট বিভাগের অধীন নন। সরকার তাদের কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। এ ক্ষেত্রে তারা স্বাধীন।
অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই পদে হাইকোর্টের বিচারপতির আসীন থাকাতে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। হাইকোর্টের বর্তমান বিচারপতিদের ট্রাইবু্যনালে নিয়োগ দেয়ায় তাদের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়নি।
আরএ/ফোকাসবাংলা/১৬৪০ঘ./জেডআর/শা খা বর্ণ
|
|
|